শচীন হলেন ক্রিকেটের ঈশ্বর, আর বন্ধুর ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫০

একই স্কুল, একই কোচ এবং একই সঙ্গে ক্রিকেটের আঙিনায় বেড়ে ওঠা দুই বন্ধু-শচীন টেন্ডুলকার ও বিনোদ কাম্বলি। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, একজন আজ ক্রিকেটের ঈশ্বর, অন্যজন হারিয়ে গেছেন স্মৃতির আড়ালে। অথচ কৈশোরে শচীনের চেয়েও নামডাক বেশি ছিল কাম্বলির। তার প্রতিভা শচীনের চেয়েও বেশি ছিল, কথাটা বলেছিলেন খোদ ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব।

শচীন পরে তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারই বনে গেছেন। আর বিনোদ? তার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রমে। কাম্বলির ঝরে পড়ার খবরটা বহু আগেই পুরোনো হয়েছে। তবে তিনি এবার শিরোনামে এসেছেন একটি ভিডিওবার্তা দিয়ে। সেখান থেকেই খবর মিলেছে, তিনি এখন থাকছেন একটি বৃদ্ধাশ্রমে। 

সেই ভিডিওতে তিনি একটা বৃদ্ধাশ্রমের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তবে সেখানে মনে হচ্ছিল তার স্পষ্ট করে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি ওই কেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেন। ভিডিওতে কাম্বলি বলেন, ‘এই কেন্দ্রে থেকে তার নিজের বাড়ির মতোই অনুভূত হচ্ছে।’

৫৪ বছর বয়সী কাম্বলিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি ভালো মেজাজে আছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সম্প্রতি কাম্বলির নানা স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খবর আসছে। তার বন্ধু ও সাবেক ফার্স্ট ক্লাস আম্পায়ার মার্কাস কৌতো দাবি করেন, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে সাবেক এই ব্যাটসম্যানের স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মূত্রনালির সংক্রমণের কারণে মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাম্বলি। এ বছরের শুরুর দিকে কৌতো বলেন, ‘প্রায় ১৮ মাস আগে থানেতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। তার স্মৃতিশক্তি ভালো না। সে জিনিস মনে রাখে, তারপর আবার ভুলে যায়। এটা সবই ওই জমাট বাঁধা রক্তের কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাম্বলি মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছে, তবে মাঝে মাঝে ধূমপান করে। তার জন্য ধূমপান পুরোপুরি নিষেধ। কারণ এতে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই তথ্য জানিয়েছেন খ্যাতনামা নিউরোসার্জন ডা. আদিল চাগলা, যিনি কাম্বলির চিকিৎসা তদারকি করছেন।’

তবে কাম্বলির স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট এসব দাবিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডেকে হিউইট বলেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় বিনোদ ভালো আছে। কে তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, আমি জানি না।’

কাম্বলি একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ছিলেন। বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স দেখে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক আশা জেগেছিল। তবে দুর্দান্ত শুরুর পরও তার ভারতীয় ক্যারিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। তিনি মাত্র ১৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান।

ইত্তেফাক/এসএইচ