ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনাটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি মেনে নিয়ে নিজেদের শর্ত পূরণ করলে ইরানও তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশ করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (সর্বোচ্চ নেতা) সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এটি গ্রহণ করে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে আমরাও তা করব। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির ছয় সদস্যের একটি দল এ বিষয়ে আলোচনা করছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী, পার্লামেন্ট ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এই দলে রয়েছেন।
প্রায় সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় থাকা শর্তগুলো জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা শর্তেরই অনুরূপ।
পরিকল্পনাটিতে ইরানের জব্দ করা সম্পদ থেকে অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় করার পাশাপাশি ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের অবসানের দাবি রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রকাশ্যে ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের কথাও রয়েছে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
