৩৭ চিকিৎসক পদ শূন্য নিজেই ‘রোগী’ মিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ চিকিত্সকসংকটে জর্জরিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ৪৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র সাত জন। ফলে ৩৭টি চিকিৎসক পদই শূন্য রয়েছে। এতে বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

চিকিত্সকসংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা। টিকিট কেটে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা না পেয়ে নন-এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সকসংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে আউটডোরে রোগী দেখা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের নাম, পদবি ও সিল দেওয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি দীর্ঘদিনের। রোগীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

রোগীদের ভাষ্য, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের নাম, পদবি ও সিল থাকলে কে রোগী দেখেছেন তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য মাত্র সাত জন চিকিৎসক দিয়ে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রোগীদেরও দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তাদের দাবি, দ্রুত শূন্য চিকিৎসক পদগুলোতে জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আউটডোরে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকের পরিচয়সংবলিত সিল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নষ্ট জেনারেটর প্রতিস্থাপনসহ হাসপাতালের অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান সরকারি আশ্রয়স্থল মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিত্সকসংকট ও অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং চিকিত্সকসংকটসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর অবসান ঘটিয়ে মিরপুরবাসী স্বাভাবিক ও মানসম্মত সরকারি চিকিৎসাসেবা ফিরে পাবেন।

ইত্তেফাক/এমএস