ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকককে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০

টানা ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার শহরটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছেন ব্যাংককের গভর্নর। স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে আরও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার (১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও গাড়ির অধিকাংশ অংশ পানির নিচে চলে গেছে। অনেক মানুষকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট বলেছেন, এ পরিস্থিতি মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পদেরও ক্ষতি হতে পারে। খালগুলোর আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তারা আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপন করছে। ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসন স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুপারশপগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। অনেকে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে মজুত করতে থাকেন।

১৯ বছর বয়সী সানসুক লাওয়াচারাকুল বলেন, ‘আমিও চিন্তিত। আগে থেকে খাবার মজুত করে রাখিনি। আর মা-বাবা আমার সঙ্গে না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো একা হইনি।’

আজ খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষদের জরুরি সতর্কতা জারি করে নিজেদের জিনিসপত্র নিরাপদ ও উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিতে বলেছে সরকার।

ব্যাংকের বাসিন্দা সুপ্পাকার্ন জুলাভিজিতফং বন্যার পানিতে ঘেরা একটি ফ্ল্যাটবাড়ি থেকে লাগেজ সরিয়ে নেওয়ার সময় বলেন, ‘সতর্কবার্তা পাওয়ার আগে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতে পারে, এটা বুঝতে পারিনি। তাই অন্য জায়গায় যাওয়ার কথাও ভাবিনি।’

বন্যা সত্ত্বেও শহরের প্রধান বিমানবন্দর সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের যাত্রার সময়সূচিতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এর আগে গত নভেম্বরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছিল থাইল্যান্ড। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে ওই বন্যায় অন্তত ১৪৫ জন মারা যান এবং হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইত্তেফাক/এমএস