কুবিতে লাইব্রেরিতে বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৮

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাইব্রেরিতে বসা নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, প্রকৌশল অনুষদ, প্রধান ফটক ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসা নিয়েসিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয়। পরে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর বাসায় ফেরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম মজুমদার গুরুতর আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত ভেঙে গেছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিব, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাকিল এবং একই বিভাগের একই বর্ষের আবির জড়িত ছিলেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আইসিটি বিভাগ পর্যন্ত আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তালা খুলে দিলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আসা ব্যক্তিদের ধাওয়া করেন।

ধাওয়া করে তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে পৌঁছালে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে লাইব্রেরিতে। আমরা শুরুতেই বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এর পর কীভাবে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানাব। তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস