ঢাকার খালগুলো দখলমুক্ত ও সচল করে জলাবদ্ধতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, চলতি শুষ্ক মৌসুমেই মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের কাজ এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে খালগুলো পানিনিষ্কাশন ও মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বের) বিকেলে জিরানী খালসংলগ্ন এলাকায় চারটি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জিরানী খালের একাংশ পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, ‘অতীতে স্বৈরাচার সরকারের মতো আমরা মুখে বলব না, দেশকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুর বানাব। প্রধানমন্ত্রী চান বাসযোগ্য একটি ঢাকা, যেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে, জলাবদ্ধতা থাকবে না।’ তার ভাষ্য, খাল পরিষ্কার করার পাশাপাশি পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও মানুষের হাঁটার জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতেও পানিপ্রবাহ ও নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করতে চায়। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং পয়োবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থাও এই উদ্যোগের অংশ। খাল ও নদীর কাজের জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে; কয়েকটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
চার খালের কাজ কত দূর এগিয়েছে, তা দেখতেই পরিদর্শনে আসার কথা জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতি এখন ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুম কাজে লাগিয়ে গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালের ভেতর ও পাড়ে অবৈধ দখল চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি জায়গা উদ্ধারে প্রশাসন স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার কাজেও নাগরিকদের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য, সরকার একা এসব কাজ শেষ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দেব।’
খাল পরিদর্শনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিরোধী দল অহেতুক কিছু ফালতু বিষয় নিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের দিকে যাচ্ছে দাবি করে মীর শাহে আলম সরকারকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের যেখানে ব্যর্থতা আছে, সে জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
