সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অ্যাথলেট ও প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধকে। তার পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন পার্কে নিয়মিত দৌড়ানোর পাশাপাশি দৌড়বিদদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শরীরচর্চা শেষে মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় তার পরনে ছিল টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট। এ পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাকে স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে ভিডিওসহ একটি পোস্ট করেন সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ।
ভিডিওতে দেখা যায়, টিকিট পাঞ্চ করার সময় ওই প্রশিক্ষককে থামিয়ে দেন এক পুলিশ সদস্য। এরপর তাকে শালীনতার সঙ্গে যাতায়াত করার কথা বলা হয়।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেন প্রশ্ন করেন– কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি কোথায় লেখা আছে? দেখান আমাকে।
জবাবে এক পুলিশ সদস্য ভিডিও করতে করতে বলেন, এটা (তার পোশাককে উদ্দেশ করে) শালীনতার পর্যায়ে পড়ে না। হাফপ্যান্ট না পরে তাকে ‘শালীন পোশাক’ পরার কথা বলা হয়।
এভাবে প্রায় ৪০ মিনিট মেট্রোস্টেশনের পাঞ্চ মেশিনের সামনে অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়।
সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্য, হাফপ্যান্ট বা শর্টস পরে মেট্রোতে ওঠা নিষিদ্ধ হলে সেটির লিখিত নিয়ম দেখানো উচিত ছিল। অ্যাথলেট প্রশিক্ষক হিসেবে শরীরচর্চার পর দৌড়ানোর পোশাকে যাতায়াত করাটা তার কাছে স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাজ্জাদ লেখেন, আমাদের মতো মানুষ আসলে এই দেশে থাকার যোগ্য না। ব্যাপারটা এমন না, এমন ঘটনা আজ প্রথম, প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটে। কিন্তু চামড়া মোটা বলে এড়িয়ে যাই।
