মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই বা সরকার আছে দখলবাজদের পক্ষে: হাসনাত কাইয়ূম

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০

দখলবাজির চূড়ান্তপনা দেখে মনে হয় যেন দেশে কোনো সরকার নেই, অথবা সরকার আছে কেবল দখলবাজদের পক্ষে। সাধারণ মানুষের পক্ষে না- এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। 

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। 

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনকালে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে দিনের পর দিন স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসত, সেই জায়গাটাকে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, অথচ প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা আমরা দেখিনি।’

এই ঘটনাকে সার্বিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আরও হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকালই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ বেশ কিছু স্থাপনায় একইভাবে রাতের অন্ধকারে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরপর এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, রাজধানীতেই দখলবাজ চক্র বেপরোয়াভাবে সক্রিয়; আর সরকার, প্রশাসন তাদের ফ্যাসিলিটেইট (সহায়তা) করছেন।’

পরিদর্শনকালে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, তার সমাধান হওয়ার কথা আদালতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর তা প্রতিরোধে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হয়, এই রাষ্ট্রে আইন, কানুন, প্রশাসন, সরকার বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দুই দলের পক্ষ থেকে যৌথভাবে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। নেতারা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক সব দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে যেকোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আবার চালু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান নেতারা।

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান, প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম এবং রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 
ইত্তেফাক/এমএস