রাজস্থানে থানার সামনে মুসলিম ব্যক্তিকে মাথা থেঁতলে হত্যা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৩

ভারতের রাজস্থানে থানার সামনে প্রকাশ্যে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে মাথায় বারবার আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী সাইকুন খান নামে ওই ব্যক্তি টায়ার কিনতে যাওয়ার পথে আলওয়ারের বারোদা মেও থানার সামনে হামলার শিকার হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বারোদা মেও বাজারে যাচ্ছিলেন সাইকুন খান। পথে তিনি তার সঙ্গে থাকা নূর মোহাম্মদকে একটি ব্যাংকের কাছে নামিয়ে দেন। এরপর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হর্ষ মূর্তিকার নামে এক ব্যক্তি তাকে থামান এবং মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মাথায় পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের পরিদর্শক রাজকুমার বলেন, সাইকুন খান ও অভিযুক্তের মধ্যে কোনো শত্রুতা ছিল না এবং তারা একে অপরকে চিনতেন না। পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা যাচাইয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার পর সাইকুন খানকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাকে আলওয়ারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হলে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর বারোদা মেও থানার সামনে ও আলওয়ার জেলা হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার তদন্তের দাবি জানান তারা। বিক্ষোভকারীরা আলওয়ার-ভরতপুর সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।

পুলিশ ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করেছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তার দাড়ি ও টুপি দেখে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আলওয়ারের কংগ্রেস বিধায়ক টিকারাম জুল্লিও ঘটনার সমালোচনা করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 
ইত্তেফাক/এসজে