চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৫৪ কিশোরসহ আটক ৪৪৫

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৭

চট্টগ্রামের ১৭টি উপজেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫৪ জন কিশোরও রয়েছে। এর মধ্যে ২৯৩ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মূলত রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযানে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে আসছে কি না এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য অভিভাবকদের ব্রিফ করা হয়। পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হয়।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমে অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

 

ইত্তেফাক/এপি