বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে

দিল্লিতে ৬ সপ্তাহের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৬

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ডিসেম্বর থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লি প্রশাসনের শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণকাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই নগরী বিশ্বের অন্যতম দূষিত রাজধানী হিসেবে নিয়মিতই আলোচনায় আসে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং আশপাশের এলাকায় ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়াকে দিল্লির বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে যানবাহন চলাচলেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সাংবাদিকদের পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা বলেন, শীতকালে শহরের বাতাস যাতে বিপজ্জনক বা বিষাক্ত মাত্রায় না পৌঁছায়, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শীতের সময়ে ঠান্ডা বাতাসের ভারী স্তর দূষিত উপাদানগুলোকে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে রাখে। এতে দিল্লির বায়ুর মান দ্রুত অবনতি ঘটে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টায় ভিন্নতা আনা হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ১ নভেম্বর থেকে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হবে।

২০২৪ সালে ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে পরিবেশ ও বায়ুদূষণের সঙ্গে প্রায় ৩৮ লাখ মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক ছিল।

শীতকালে দিল্লির বাতাসে ক্যানসার সৃষ্টিকারী সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫-এর মাত্রা অনেক সময় প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হয়ে যায়। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দৈনিক নিরাপদ মাত্রার প্রায় ২০ গুণ।

এর আগে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন সীমিত করা ও কৃত্রিমভাবে পানি ছিটানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি।

নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী সিরসা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে এবং আগামী বছরগুলোতে দিল্লির বায়ুর মানে দৃশ্যমান উন্নতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।

ইত্তেফাক/এসজেএস