বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৩

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা নেই’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। চাহিদা অনুযায়ী উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

১১টি বোয়িং কেনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখন বোয়িং কিনছি। বাংলাদেশের তো বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখন যা আছে, এটা কিছুই না। এটা নিয়ে গোপন কোনো এজেন্ডা নেই। প্রশ্নও আসে না।’

বোয়িংয়ের সঙ্গে উন্মুক্ত পরিবেশে চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। হয়ত প্রয়োজন হলে আমরা কিছু কিনব। বোয়িং বা অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিনব না।’

চুক্তি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বহরে বোয়িং বেশি। কিন্তু আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। এই শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে, এভিয়েশন হাব হলে গেলে, আপনার মিশ্র বহর দরকার।’

চাপের মুখে বোয়িংয়ের উ‌ড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত—এমন ধারণা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, যাত্রীচাহিদা এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করছে।

বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট আবার চালু নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব‌লেন, এ বিষয়ে একটি কারিগরি মূল্যায়ন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল এবং সরকার এখন এটি আবার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ালাইন্স। সব মিলিয়ে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশকে গুনতে হবে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ইত্তেফাক/এনএ