মাপে তেল কম দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনের সব ইউনিট বন্ধ, জরিমানা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০২

জ্বালানি তেল পরিমাপে কারচুপির অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘পৌর ফিলিং স্টেশন’-এর সবকটি ডিসপেন্সিং ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে প্রতি ১০ লিটার অকটেন ও ডিজেলে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচটি মামলায় মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিএসটিআইয়ের এক ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ওই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ফিলিং স্টেশনটির পাঁচটি ডিসপেন্সিং ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের মান ও পরিমাপ যাচাই করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, অনুমোদিত পরিমাপের চেয়ে একটি অকটেন ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৫৩০ মিলিলিটারের বেশি কম দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চারটি ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে যথাক্রমে ৩৩০, ৩০০, ৩৪০ ও ৩২০ মিলিলিটার করে তেল কম দেওয়া হচ্ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ লিটারে তেলের ঘাটতির অনুমোদিত সর্বোচ্চ সহনীয় সীমা মাত্র ৩০ মিলিলিটার।

অভিযান চলাকালে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন গাড়ি প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার এবং অন্যান্য যানবাহন প্রায় ৫ হাজার লিটার জ্বালানি ক্রয় করে থাকে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিক্রির এই পাম্পের পাঁচটি ইউনিটেই পরিমাপে বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন।

পরিমাপে কারচুপির দায়ে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বার্থে ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ডিসপেন্সিং ইউনিটের সব কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়ে দ্রুত পরিমাপ সংশোধনের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষা এবং জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইত্তেফাক/এনএন