রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং এফসি বার্সেলোনাকে মাদ্রিদের একটি আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ২৫ নভেম্বর সেখানে সমঝোতার শুনানি হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। এই শুনানির পর পেরেজের বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে গত মে মাসে পেরেজের একটি মন্তব্য। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বার্সেলোনা রেফারিদের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য কৌশল করছে। এই মন্তব্যের জেরে ১২ জুন আইনি পদক্ষেপ নেয় বার্সেলোনা।
বার্সেলোনা বলেছে, তারা চায় পেরেজ তার মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। কাতালান ক্লাবটির ভাষায়, এই মন্তব্য ডাহা মিথ্যা, মানহানিকর এবং ক্লাবের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর। বার্সেলোনা সতর্ক করেছে, সমঝোতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তারা ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করবে।
এই বিরোধের কেন্দ্রে আছে পেরেজের ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনের মন্তব্য। সেখানে তিনি তথাকথিত নেগ্রেইরা মামলা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
স্পেনের আদালত একটি বিষয় তদন্ত করছে। বার্সেলোনা প্রায় দুই দশক ধরে হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরার সঙ্গে যুক্ত কিছু কোম্পানিকে টাকা দিয়েছে। এই অর্থের পরিমাণ ৭০ লাখ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। নেগ্রেইরা স্পেনের রেফারি কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তদন্তে দেখা হচ্ছে, এই টাকা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল কি না।
বার্সেলোনা কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই টাকা রেফারিদের নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি আদালত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল।
পেরেজ এই ঘটনাকে ‘ফুটবলে দুর্নীতির সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে বার্সেলোনা রেফারিদের প্রধানকে টাকা দেবে।’
রিয়াল মাদ্রিদকে লিগ শিরোপা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন পেরেজ বলেছিলেন, ‘আমি সাতটি লিগ জিতেছি। আমি এর দ্বিগুণ জিততে পারতাম। বাকিগুলো আমার কাছ থেকে চুরি হয়ে গেছে।’
