ওলিসের গোলে পাগলাটে উদযাপনের পর জিদান বললেন ‘সে খাঁটি প্রতিভা’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫৭

ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই জয় পেয়েছিলেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। ৩২ বছর পর প্রথম ফরাসি কোচ হিসেবে জয়ে শুরু করার পর এবার নতুন এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। ফ্রান্সের ইতিহাসে চতুর্থ কোচ হিসেবে জাতীয় দলের প্রথম দুই আনুষ্ঠানিক ম্যাচেই জয় পেয়েছেন জিদান।

তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে মাঠের বাইরের এক পাগলাটে উদযাপনের জেরে আলোচনায় এসেছেন ফরাসি কোচ। মাইকেল ওলিসের অসাধারণ নৈপুণ্যে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ওলিসের গোলে উচ্ছ্বসিত জিদান সাইডলাইনে রাখা একটি বলে জোরে লাথি মেরে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন।

সাধারণত মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত জিদানের এমন উদযাপন ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। তার এই উচ্ছ্বসিত উদযাপনের ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

পরবর্তীতে এমন পাগলাটে উদযাপনের কারণ জানাতে গিয়ে হাসতে হাসতে জিদান জানান, চেরকির কাছ থেকে ওলিসে বল পাওয়ার পরই তার মনে হয়েছিল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ওলিসে দৌড়ে বেলজিয়ামের গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই জিদান বুঝতে পেরেছিলেন, গোল হতে পারে। নিজের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেওয়ার পর তিনি শক্তিশালী শটে বল মেরে উদযাপন করেন, যা তার খেলোয়াড়ি জীবনে বল সামলানোর মার্জিত ধরনের সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য।

জিদান বলেন, ‘আসলে আমি কী করেছি, সেটাই জানি না (হাসি)। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, মাইকেল (ওলিসে) যখন বল পেল তখন থেকেই আমি তার খেলাটি অনুসরণ করছিলাম, কারণ আমার মনে হয়েছিল সে ড্রিবল করবে। আর সে অসাধারণ একটি কাজ করেছে। এরপর আমি বলটি দেখলাম, আর আমাকে শট নিতেই হলো। ব্যাপারটা কিছুটা হাস্যকর ছিল, কিন্তু এটা বিশেষ কিছু নয়। আমি তার সঙ্গে ছিলাম, তার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম। আমি তাকে ড্রিবল করতে দেখলাম এবং ভাবলাম “সে গোল করবে!” যাই হোক, আমি পুরোপুরি তার সঙ্গেই ছিলাম (হাসি)।’

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় ওলিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ফ্রান্স কোচ। জাতীয় দলে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা খেলোয়াড়দের একজন ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে জিদান বলেন, ‘সে খাঁটি প্রতিভা। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমি পছন্দ করি। সে যখন খেলে, তখন মানুষকে আনন্দ দিতে চায়। শুধু তা-ই নয়, ফুটবল সম্পর্কে তার দারুণ অনুভূতি আছে। সে আগে থেকেই খেলা বুঝতে পারে, কখন ঝুঁকি নিতে হবে আর কখন পিছু হটতে হবে, সেটাও জানে। তার পাশে থাকতে পেরে, তাকে এভাবে খেলতে দেখে আমি খুশি।’

প্রসঙ্গত, দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি হয়ে জিদান তার প্রথম ম্যাচেও জয় পান। তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ১-০ গোলে জেতে লে ব্লুরা। আগামী ২ অক্টোবর তারা ইতালির বিপক্ষে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচ খেলবে।

ইত্তেফাক/এমএস