নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন ‘সর্বহারা’র পরিচয়ে ফোন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্তত পাঁচজন শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নগরের মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষক। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
হুমকির শিকার শিক্ষকেরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং নাট্যকলা বিভাগের দুই শিক্ষক অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও কৌশিক সরকার। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা নিজেদের সর্বহারা সদস্য দাবি করে ফোনে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করে এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, তার নম্বরে পরপর দুবার ফোন আসে। দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ সময় কথা বলার একপর্যায়ে জেলে থাকা দলের কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তিনি কত টাকা দিতে পারবেন তা জানতে চাওয়া হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনার মাথায় রিভলবার ধরে বলেনি যে আপনি টাকা ম্যানেজ রাখবেন।’ নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি কথা বলছিলেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ফোনকলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সিমটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।
হুমকির বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাকে ফোন করে সর্বহারার পরিচয় দেওয়া হলে আমি আর কথা না বাড়িয়ে সংযোগ কেটে দিই। পরে জানতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের কাছেও একইভাবে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজুন জানান, শিক্ষকদের ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরের সূত্র ধরে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
