বাড়ির ভেতর নিঃসঙ্গ মৃত্যু, দুর্গন্ধে মিলল এরশাদুলের লাশ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮

বাড়িটি ছিল নিজের। ছিল মাথা গোঁজার নিশ্চিন্ত ঠিকানাও। সেই বাড়িতেই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছিল একেবারে নিঃসঙ্গতায়। মা মারা যাওয়ার পর একাই থাকতেন এরশাদুল হক রতন (৫২)। একসময় যে বাড়িতে মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পারিবারিক জীবন ছিল, সেই বাড়িই শেষ পর্যন্ত রতনের একাকী জীবনের সাক্ষী হয়ে রইল। মায়ের মৃত্যুর পর সেই বাড়িতে তার সঙ্গী ছিল কেবল নিঃসঙ্গতা। জীবনের শেষ মুহূর্তেও তার পাশে কেউ ছিলেন না। কয়েক দিন পর বাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধই জানিয়ে দিল—ঘরের ভেতর নিঃশব্দে পড়ে আছে একজন মানুষের নিথর দেহ। কয়েক দিন ধরে তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে জানালা খুলে পাওয়া গেল তার অর্ধগলিত লাশ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের ডি ব্লকের ভি- ২১ নম্বর বাড়ি থেকে এরশাদুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে রনি নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে খবর দেন, ঐ বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাইরে থেকে একটি জানালার পাল্লা টেনে খোলার পর বাড়ির ভেতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় লাশ। পরে মৃতের ছোট ভাই রঞ্জু ঘটনাস্থলে এলে তার উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত এরশাদুল হক রতন ঐ বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ও মালিক ছিলেন। তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল অনেক আগে মারা গেছেন। পুলিশ ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে রতনের মা মারা যাওয়ার পর তিনি বাড়িটিতে একাই বসবাস করছিলেন। এর আগে মাকে নিয়েই থাকতেন তিনি।

রতনের ছোট ভাই রঞ্জু জানান, তার বড় ভাই দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। সম্প্রতি তার হৃদরোগ ধরা পড়ে। এর মধ্যেই একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। স্ত্রী রত্না বেগম ও একমাত্র মেয়ে আরিয়ানা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে রংপুরে বসবাস করছেন। রত্না রংপুরে শিক্ষকতা করেন। মেয়ে আরিয়ানা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর স্ত্রী ও মেয়েকে ঢাকায় আসতে বলা হলেও তারা বিভিন্ন কাজের কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আসতে অপারগতার কথা জানান।

রাজধানীতে একাকী মানুষের এমন নিঃসঙ্গ মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। কয়েক মাস আগেও পল্লবীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার পচনধরা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তিনিও দীর্ঘ সময় একা বসবাস করছিলেন বলে জানা যায়। একের পর এক এমন ঘটনায় নগরজীবনে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বের নির্মম চিত্র সামনে আসছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, সুরতহাল শেষে এরশাদুল হক রতনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/এনএন