শারদীয় দুর্গাপূজা

রাস্তার অভাবে প্রতিমা নিয়ে বিপাকে কারিগররা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৯

শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগরেরা। বাঁশ, কাঠ, খড়, রশি ও মাটি দিয়ে প্রতিমার মূল কাঠামো তৈরির পর এখন চলছে রঙের কাজ। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী প্রতিমার দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। অন্যদিকে, পালপাড়া থেকে সড়ক পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা না থাকায় প্রতিমা বের করার সময় প্রায়ই বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় পালপাড়া থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন কারিগরেরা।

বুধবার দুপুরে উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের নারী-পুরুষের পাশাপাশি অন্য এলাকা থেকে আসা কারিগরেরাও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। প্রতিমার মূল কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙের কাজ।

কারিগরেরা জানান, ভদ্রঘাটের এই পালপাড়ায় প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ১৩টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের নারী-পুরুষ সমানতালে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫টি প্রতিমা বেশি তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার ২২০টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর দিলীপ পাল জানান, ভদ্রঘাট পালপাড়ায় তৈরি প্রতিমা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলা এবং টাঙ্গাইল ও জামালপুরে সরবরাহ করা হবে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিমা বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিমার আকার ও ধরনভেদে ১৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।

কারিগর জিতেন পাল বলেন, “এই পালপাড়া থেকে প্রতিমা বের করার রাস্তা নেই। অনেক কষ্টে বের করার সময় অনেক প্রতিমার অঙ্গহানি হয়ে যায়। এতে প্রতিমার গুণগত মান খারাপ হওয়ায় গ্রাহকদের কথা শুনতে হয়। পালপাড়ায় ২৫০ মিটার একটি ছোট সড়ক করে দিলে আমরা অনায়াসে যাতায়াতের পাশাপাশি প্রতিমাও বের করতে পারব।”

ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা আব্দুস সামাদ বলেন, ভদ্রঘাটের পালপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তাঁরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।

কামারখন্দ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শম্ভুনাথ দাস জানান, এ বছর উপজেলায় ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজা উৎসবমুখর করতে ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গা ঘটকে আগমন করবেন এবং দোলায় চড়ে বিদায় নেবেন।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, গত বছর পূজা শুরুর কিছুদিন আগে রাস্তার বিষয়টি জানানো হলে সেখানে একটি রাস্তা করে দেওয়া হয়েছিল। এ বছরও কামারখন্দ থানার ওসিসহ পালপাড়া পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে রাস্তার বিষয়ে কেউ তাঁকে কিছু জানাননি। প্রতিমা তৈরির কারিগরেরা রাস্তা নিয়ে কোনো সমস্যার কথা জানালে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএইচপি