জামিনে বেরিয়েই বাদীকে হত্যার হুমকি, ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বিএনপি নেতার

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০১

নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজুল ইসলাম (৪৮) নামের এক সাবেক বিএনপিস নেতা (শিক্ষক) উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালতের আদেশে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

এ সময় সেখানে গাড়ির বহর ও ফুলের মালা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মানুষ রানাও, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কিছু কর্মী সমর্থকও।

পরদিন বুধবার উপজেলার নাজিরপুরে এক সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফিরোজ বাদীকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘চারজনের সাক্ষীতে যদি আমার যাবজ্জীবন জেল দেয়, তাহলে এখানে কয়েক হাজার লোক আছে, এরা তো সবাই সাক্ষী দিচ্ছে, প্রতিপক্ষরা কী করেছে। বিচার হবে। বিচার কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এই নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার হবে।’

তার এই বক্তব্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ও মামলার বাদী বলেন, ‘জামিনে এসেই আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাজিরপুরের মাটিতেই বিচার করার হুমকিও দিয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করছি। বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে জানিয়েছি।’

ফিরোজুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি নাজিরপুরের দৌলতপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। একসময় গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ফিরোজ বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। একসময় উপজেলার দায়িত্বশীল পদে থাকলেও নানা বির্তকের কারণে পদ হারান তিনি।

রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধান শিক্ষক ফিরোজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন এবং অপহরণের ঘটনায় পৃথক একটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পরিবার আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু আপিলে আসামি ফিরোজ মুক্তি পাওয়ায় বাদীর পরিবারে ভীতি তৈরি হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে অন্যায়ভাবে হুমকি দেওয়া হলে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে গেলে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম। পরে তাকে রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা গুরুদাসপুর থানায় ফিরোজুল ইসলাম ও তার দুই ভাইকে আসামি করে মামলা করেন। ওই বছরের ১১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের তকীতলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫।

ইত্তেফাক/এমএসআর