ফিফা আসিয়ান কাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে হামজা চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা কাউকে ভয় পেতে আসিনি। তবে টুর্নামেন্ট খেলতে এসে বাস্তবতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিয়েছেন হামজা, জামাল, সামিতরা। এবার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে থমাস ডুলির শিষ্যরা। ইন্দোনেশিয়া অনেক পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না।
আসিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট খেলতে এসেও বাফুফে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য কেবলই সাফ! এমনটি টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ই সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাফ নিয়ে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানান কর্মকর্তারা। অথচ ভারত নিজের নাম সরিয়ে না নিলে কখনো আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগই পেত না বাংলাদেশ। ফিফার টুর্নামেন্টে খেলতে এসে অন্য কোনো দেশ নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করে দেশে ফিরতে চাইত। নিজেদের ফুটবলের সৌনালি অর্জন নিয়ে ভাবত, সেখানে বাংলাদেশ মাথা নিচু করে দেশে ফিরছে।
গতকাল জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে অগোছালো ফুটবল খেলেছিল বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার গোছানো ও দ্রুতগতির খেলার বিপরীতে বাংলাদেশ ছিল ছন্নছাড়া। একের পর এক ভুল পাস, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি এবং রক্ষণভাগের দুবলতায় শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই বাংলাদেশের জালে প্রথমবার বল পাঠায় স্বাগতিকরা। ওলে রোমেনির পাস থেকে গোল করেন লে বেকার।
২০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ৩২তম মিনিটে রিজকি রিদোর পাস থেকে ইন্দোনেশিয়ার তৃতীয় গোল আসে। চার জন বাংলাদেশি ডিফেন্ডার কাছাকাছি থেকেও বলটি জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি। তবে ৩৬তম মিনিটে একটি গোল করে কিছুটা স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ। সুকির ক্রস থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। এক মিনিট পরই নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লে বেকার। এরপর ৪২তম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। যোগ করা সময়ে হাবনারের গোলে প্রথমার্ধেই ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গোছানো ফুটবল খেললেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের ধার কমেনি। একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। তবে নির্ধারিত সময়ের ১ মিনিট বাকি থাকতে আবারও গোল হজম করে বাংলাদেশ। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ইন্দোনেশিয়ার জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান কমান ফারহান আলী। রাকিবের ক্রস থেকে পাওয়া বল দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে জালে জড়িয়েছেন ফারহান।
এরপরই মারামারিতে জড়িয়েছেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। হলুদ কার্ড দেখেন ইন্দোনেশিয়ার দুই ফুটবলার। যদিও শেষ বাঁশি বাজার আগে আরও দুইবার বাংলাদেশের জালে বল জড়ায় স্বাগতিকরা। মিচেল বেকার করেন ম্যাচে নিজের চতুর্থ গোল। ফলে ৯-২ ব্যবধানের হার নিয়েই আসিয়ান কাপ শেষ করে বাংলাদেশ। যা দেশের ফুটবলের বড় হারগুলোর মধ্যে একটি। এর আগে বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ৯-০ ও ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯-০ গোলে ও ১৯৮৫ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে ৯-১ গোলে হেরেছে।
গত দুই প্রজন্ম পর আবারও এমন বাজে হার দেখল বাংলাদেশ। অথচ দেশি ও অরিজিন ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে বাফুফে। ফেডারেশেনর স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিশাল ফারাক। পুরো আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচে মোট ১৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে গতকাল ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করেছে বাংলাদেশ। যা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের বলার মতো একমাত্র অর্জন।
