রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানিবাহী বিমান রাশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বিমান দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এক দফা সময় পরিবর্তন করে রাত সাড়ে ১১টায় ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানটি ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানিবাহী বিমানটি ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে রওনা হয়েছে। ভারতে বিরতি নিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাবে।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরে পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে করে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। পরে শনিবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
এর আগে, পারমাণবিক জ্বালানি বৃহস্পতিবার দেশে আসার কথা থাকলেও একদিন পিছিয়ে শুক্রবার দুপুরের দিকে সময় নির্ধারণ করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে জ্বালানি পরিবহনে আর কোনো জটিলতা নেই।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—মোট নয়টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জ্বালানি পরিবহনের জন্য রাশিয়া ও বাংলাদেশ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও বিশেষ কারণে তা একদিন পিছিয়ে যায়।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বুধবার সেফটি ভালভের মেরামতকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে এনপিসিবিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
