কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে কুমিল্লাজুড়ে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানে আরও ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ নিয়ে অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের পরিচালিত টানা পাঁচ দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩৫ জনে।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ও যেসব এলাকায় উঠতি বয়সের কিশোরদের গ্যাং সংশ্লিষ্টতা ও আড্ডাবাজি বেশি, সেগুলোকে চিহ্নিত করে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, নতুন করে আটক ৩৬৩ জনের অতীত রেকর্ড, অপরাধের ধরন ও সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অভিযানের সময় সাধারণ কিংবা নিরপরাধ কোনো কিশোর যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়টি জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দফায় মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তথ্য যাচাই শেষে গুরুতর কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৯৩০ জনের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৭৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরপূর্বক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যেন অপরাধমূলক কার্যকলাপ, ক্ষতিকর গ্যাং কালচার কিংবা মাদকের করাল গ্রাসে জড়িয়ে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই জেলা পুলিশের এই নিয়মিত পদক্ষেপ। কিশোর অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
