সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগপত্র ইস্যুর দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মেধার পরিচয় দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত সুপারিশপত্র পেয়েছিলেন তারা। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও শেষ ধাপে এসে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। এমনকি সুনির্দিষ্ট কী কারণে তাদের নিয়োগবঞ্চিত করা হলো, সে বিষয়েও অধিদপ্তর থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এখনো শতাধিক যোগ্য প্রার্থী এভাবে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভেরিফিকেশনের তালিকায় তিনি বাদ পড়েন। পরবর্তীতে বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্বিতীয় দফায় যাচাই শেষে গত ১ অক্টোবর নতুন আদেশ জারি হলে তার জেলা গাইবান্ধার আরও ছয়জন নিয়োগপত্র পান। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৯৫ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তিনি কোনো কারণ ছাড়াই বঞ্চিত রয়ে গেছেন।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে রোববার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী প্রাথমিক পরিচিতিমূলক (ওরিয়েন্টেশন) প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলবে এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নতুন শিক্ষকদের ১১ অক্টোবর নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পদায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
