বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিকের প্রাণহানি: সেই কিশোরের জামিন না-মঞ্জুর

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২২

রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় ১৭ বছরের সেই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে ওই কিশোরের পক্ষে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। শুনানিতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন মূল গাড়িচালক কৌশলে বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়। এই শিশু নির্দোষ, তাই আমরা তার জামিন চাই।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে তারা ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারকে সেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে এসেছেন। বাদীপক্ষও আদালতে উপস্থিত রয়েছে এবং জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ সময় আদালতের বেঞ্চে বসে থাকা নিহতের বাবা ও ভাই এজলাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

আইনজীবী আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন শিশু এবং সে জামিন পাওয়ার হকদার। এ সময় আদালত জানতে চান অভিযুক্ত কত দিন ধরে হাজতে রয়েছে। উত্তরে আইনজীবী জানান, আজ পর্যন্ত সে ১২ দিন ধরে হাজতে রয়েছে।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান আদালত। জবাবে পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মামলা। ওই কিশোরের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং তার গাড়ি চালানোর অনুমতিও নেই। তাই রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে থাকা নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দেন। সেদিন তার জামিনের আবেদন করা হলে আদালত ২৫ সেপ্টেম্বর আংশিক শুনানি শেষে আজ রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। এজাহারে ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে আকাশ মারাক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গাড়িচালক হিসেবে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।  

ইত্তেফাক/এনএ