রেলকে লাভজনক করতে মালবাহী কোচ বাড়ানো ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধের সুপারিশ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২০

লোকসান কমিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে মালবাহী ক্যারেজ বাড়ানো ও কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। রেল পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) কার্যক্রম সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হয়।

নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং এর অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

আলোচনায় রেলওয়ের যাত্রীবাহী ক্যারেজের পাশাপাশি মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কার্গো পরিবহন ও রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজিটাল সেবা আরও কার্যকর করা, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভ তৈরি ও এর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।

দীর্ঘদিনের সমস্যা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রস্তাবিত নতুন রেলপথের অগ্রগতির বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সংসদ সচিবালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সূচনা বক্তব্যে কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং আহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম