সব নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৫

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরলতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ—এই পাঁচ নীতিকে ভিত্তি করে পুরো ব্যবস্থাটি গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য গ্র্যান্ড কনভারসেশন: মডেল যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কে সিদ্ধান্ত নেয়? রাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করেছে।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেটের আওতায় আনা। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিশ্বস্ত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, পুরো ব্যবস্থার স্থাপত্য, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে পাঁচটি নীতি রাখা হবে। সরকার শুধু নতুন কোনো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় না বরং এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যা মানুষের জীবন সহজ করবে এবং সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও নিরাপদে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংলাপে নিকোলা নিক্সন যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার হবে সরলতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে। এতে নাগরিক সেবা আরও সহজ ও স্মার্ট হওয়ার পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থা অধিক গোপনীয় ও নিরাপদ হবে।

আন্তঃসংযোগের সুবিধা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একজন নাগরিককে কোনো সেবা পেতে আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ঘুরতে হবে না। শিক্ষা সনদের মতো সেবার ক্ষেত্রেও আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়া যাবে।

রেহান আসিফ আসাদ জানান, পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে আস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা তৈরি করতে সীমিত পরিসরে ‘মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট’ (এমভিপি) বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শুরুতেই সম্ভাব্য ভুল ও ত্রুটি শনাক্ত করে বড় পরিসরে তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

জাতীয় ডিজিটাল কৌশলের কেন্দ্রে ডিজিটাল আইডি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ডেটা এক্সচেঞ্জ ও ক্লাউড অবকাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল আইডি হবে দেশের অন্যতম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এর ওপর ভিত্তি করে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ধরনের সেবা গড়ে তোলা হবে।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইনসাইটওয়ার্কসের নির্বাহী পরিচালক নিকোলা নিক্সন, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও কার্যালয় প্রধান সুসান ভাইজ, শ্রীলঙ্কার ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়ারুনা শ্রী ধনাপালা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সল বিন সেরাজ।

ইত্তেফাক/এসজেএস