ম্যাচটি এখনো শুরু হয়নি। অথচ বুয়েনস এইরেসে যেন বিদায়ের বাঁশি বেজেই গেছে। মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচ। বাংলাদেশে তখন ৭ অক্টোবর ভোর ৫টা। দুই দশকের বেশি সময়ের এক মহাকাব্যের শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবলবিশ্ব।
মনুমেন্তাল ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে আবেগের কেন্দ্রে। টিকিট শেষ। মেসিকে শেষবার দেখতে মুখিয়ে লাখো সমর্থক। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আয়োজনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুত। মেসি শেষবার পরবেন ১০ নম্বর জার্সি ও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।
লিওনেল স্কালোনি জানেন, এমন রাতের সঙ্গে কোনো সাধারণ ম্যাচের তুলনা চলে না। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ জয়ের পর তিনি বলেছেন, পাঁচটি মনুমেন্তাল থাকলেও সব কটিই পূর্ণ হয়ে যেত। মেসি মাঠে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি। মেসির সঙ্গে আর মাত্র দুটি অনুশীলন সেশন কাটানোর সুযোগ ছিল স্কালোনিদের। তাই বাকি সময়টুকু শুধু উপভোগ করতে চান তারা।
বিদায়ের আগে মেসির উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। তার কাছে মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা শিরোপা নয়। প্রতিদিন সবার আগে অনুশীলনে আসা, সবার পরে মাঠ ছাড়া, নিজের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকার যে অভ্যাস, সেটিই সতীর্থদের কাছে তার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। স্কালোনির ভাষায়, মেসি এমন কিছু রেখে যাচ্ছেন যার কোনো বিকল্প নেই।
সতীর্থদের কণ্ঠেও একই আবেগ। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো বলেছেন, এই আন্তর্জাতিক বিরতিতেই তারা মেসিকে যতটা মিস করছেন, তা আগে কখনো ভাবেননি। তার মতে, মেসি কখনো নিজেকে অন্যদের চেয়ে বড় করে দেখাননি। বরং সবার সঙ্গে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। মেসির কাছ থেকে ছয়-সাত বছরে অনেক কিছু শেখার কথা বলেছেন রোমেরো। তার অধিনায়ক হওয়ার পেছনেও ছিল মেসির সমর্থন।
বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারিয়ে বিদায়ের মঞ্চে এসেছে আর্জেন্টিনা। এর আগে বলিভিয়াকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। অর্থাৎ মেসিকে ছাড়া নতুন অধ্যায়ের প্রথম দুই ম্যাচেই দারুণ ছন্দে দলটি। কিন্তু মাঠের ফল যতই আশাব্যঞ্জক হোক, মেসির শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না।
