৪৬ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০২

স্থাপনের ৪৬ বছর পার হলেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। উৎকন্ঠা  নিয়ে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করলেও ছেলে- মেয়েদের ঝুঁকিপুর্ণ  স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকেরা থাকেন উদ্বেগের মধ্যে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সামনে জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, দূরত্ব মাত্র ২০০ গজ। পেছনে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, দূরত্ব ৩০ গজ। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। অথচ সরকারি দপ্তরে ঘেরা এই এলাকায় ৪৬ বছর আগে নির্মিত জীর্ণ ভবনে চলছে জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম । ভবনের দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়ে  পানি ।

৪ অক্টোবর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ কক্ষের একতলা ভবনের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। সেখানে পাঠদান হয় না। আরেকটি কক্ষে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ চলে। বাকি তিনটি কক্ষে চলে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান। ভবনের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। কোথাও পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে এসেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। এরপর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ৮৩ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটেনি।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ফাটল থাকায় তারা সব সময় ভয়ভীতির মধ্যে থাকেন।

দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইমতিয়াজ ও শিউলি  বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তাঁরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। কখন ভবনের কোনো অংশ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয়ও রয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে বলে জানান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে না। একটি মাত্র শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভবনটির এই দুরবস্থা দেখছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি।

শিক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবনের দুরবস্থার কারণে এ বছর ১৫ থেকে ২০ জন অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি করাতে এসে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। অনেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক মাস আগে প্রস্তাব পাঠানোর কথা  সাংবাদিকদের  জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।

ইত্তেফাক/এএইচপি