বিক্ষোভের মুখে স্পেনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩২

আবাসন সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবিত আইন পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় দুটি অধ্যাদেশ সংসদে পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পরই আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এর মধ্যে ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে তার প্রয়োজন ‘আরও বিস্তৃত প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা’, যা ‘অভিজাতদের প্রতিরোধ’ কাটিয়ে উঠতে পারবে। তিনি স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু ভুল করেছে এবং সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি জোটে রয়েছে তার সোশ্যালিস্ট পার্টি ও সুমার জোট। সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে বিভিন্ন আইন পাস করাতে বিরোধী ও আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর সরকারকে নির্ভর করতে হয়।

এদিকে জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে। দলটি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠন করতে তাদের কট্টর ডানপন্থি ভক্স পার্টির সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।

আবাসন সংকটই বর্তমানে স্পেনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু। শনিবার ( ২ অক্টোবর) মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া ও বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আবাসন সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকাল এ সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। আইনি জটিলতার সুযোগে তার মাসিক ভাড়া ৫০০ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬৫০ ইউরো করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ১ হাজার ৬৫০ ইউরো করা হলেও সেটিও তার মাসিক পেনশনের চেয়ে ৩০০ ইউরো বেশি।

আবাসন সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও সানচেজের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা এবং দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়েও বিতর্ক চলছে।

এখন ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনে স্পেনের ভোটাররা সানচেজের বামপন্থি জোটকে আবারও ক্ষমতায় রাখবেন, নাকি রক্ষণশীলদের সুযোগ দেবেন সেদিকেই নজর।

 
ইত্তেফাক/আরএইচ