বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা-গ্রাহকদের সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫২

ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির ও চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ডাকবাংলো মোড়ের ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত চার গ্রাহক হলেন হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব। ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে চার গ্রাহককে মারধরের অভিযোগে বিচারের দাবিতে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনপুরায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা রাতে নিয়মিতভাবে অল্প সময় বিদ্যুৎ পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

আহত গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরবের অভিযোগ, রাতে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের নিয়ম থাকলেও তারা মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। তাদের অভিযোগ, বেশি সময় বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এসব অভিযোগ নিয়ে কার্যালয়ে গেলে মনির তাদের মারধর করেন এবং জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেন। তারা ঘটনার তদন্ত করে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিচার দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। গ্রাহকরা কোনো কথা না শুনে তার ওপর হামলা ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা তজুমদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার তড়িৎ চন্দ্র শীল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম