কলেজছাত্রকে রাতভর নির্যাতন-লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪০

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার এলাকা থেকে মনির নামের পটুয়াখালী সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উঠেছেপটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাকিব মাদবর ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী সিয়ামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আহত অবস্থায় মনিরকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতের কোনো একসময় বসাক বাজার এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান সাকিব ও সিয়াম। পরে তাকে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত স্যামসাং এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোনও রেখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন মনিরের স্বজনরা।

মনির বলেন, ছাত্রদল নেতা সাকিব ও সিয়াম রাত্রবেলা বসাক বাজার এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং অনেক মারধর করে এরপরে এক বন্ধুর মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা এবং মোবাইল ফোন রেখে তারপর ছেড়ে দেয়। 

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তামান্না রহমান বলেন, মনিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা সাকিব মাদবর। তিনি বলেন, আমরা তাকে আটকে রেখে কোনো মারধর করিনি। গভীর রাতে মনির আমাদের এলাকার এক মেয়ের বাড়িতে এসেছিল। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে সেখানে মারধর করে। ফোন পেয়ে আমি সেখানে উপস্থিত হই। এ সময় তার কাছ থেকে কোনো মোবাইল বা টাকা নেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাকিব ও কর্মী সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এমএসআর