প্রিজনভ্যানের গেট খুলে পিচ্চি রাজাকে বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেয় পুলিশ!

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৯

ঢাকার বংশালে প্রিজনভ্যান থেকে এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে নামিয়ে তার বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআই ও তার দলের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় প্রিজনভ্যান থেকে আরেক আসামিকে নামিয়ে কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে। নিম্ন আদালত এলাকা থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের দিকে যাচ্ছিল। বংশালের প্রধান সড়কে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে যানজটে পড়লে সেখানে ঘটে এ ঘটনা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার নিজ হাতে ভ্যানটির গেট খুলে দেন। এরপর তিনি ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত ওই আসামিকে ভ্যান থেকে নামিয়ে আনেন। তার সঙ্গে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও নেমে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা সামনে হাঁটতে থাকেন এবং তার পেছনে ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার। অন্যদিকে খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে প্রিজনভ্যানের চালকের পাশের আসনে গিয়ে বসেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্য আসামিদের সঙ্গে ভ্যানের ভেতরে না রেখে খায়রুল বাসারকে চালকের পাশের আসনে বসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যাতায়াত করছিলেন বলেও সূত্রটির দাবি।

এদিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটেন। সেখানে আগে থেকেই একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। পরে এসআই প্রবীর নিজে ওই আসামিকে গাড়িটিতে তুলে দেন বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, কী কারণে এমন একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তা আরও গভীরভাবে তদন্তের চেষ্টা চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার দলের বিরুদ্ধে আরও দুটি গুরুতর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথমত, ব্যস্ত সড়কে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে আসামিকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। এতে ভ্যানের ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন।

দ্বিতীয়ত, খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়া কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি ওই সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে আটকানোর মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ইত্তেফাক/এসজেএস