‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ বলা সেই বহিষ্কৃত যুব অধিকার নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০০

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে তাকে। 

এদিকে গ্রেপ্তারের এক দিনের মাথায় আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। মামলায় ফারুক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সোলাইমান চৌধুরী জানান, ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফারুক হোসেনের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ভিপি নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মামলা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

এদিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য টাকা দাবি করতে শোনা যায়। তিনি এসব কাজে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানায়।

পাশাপাশি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাতে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

যদিও ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চাননি; পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। ওই ‘পাঁচ হাজার’ টাকার কথাই বিকৃত করে ‘পাঁচ লাখ’ বানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গতকাল যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম জানান, তারা অডিওটি শুনেছেন এবং যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নু্র লিখেছেন, ‘আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এনটিএম