নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপে মিলেছে গ্যাস, চলছে ডিএসটি টেস্ট

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১৪

জ্বালানি খাতে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে নোয়াখালীর সেনবাগে নবখননকৃত একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে’ সফলভাবে এই গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। খননকাজ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর বর্তমানে কূপটিতে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) কার্যক্রম চলছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

প্রাথমিক কারিগরি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংস্থাটির প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন (৭০ লাখ) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে গত ২৮ জুলাই সুন্দলপুর-৪ কূপের আনুষ্ঠানিক খননকাজ শুরু করা হয়েছিল। আধুনিক ‘ডিরেকশনাল ওয়েল’ পদ্ধতিতে ‘এমডব্লিউডি’ (মেজারমেন্ট হোয়াইল ড্রিলিং) প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ভূগর্ভের ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে মাটির নিচে ১ হাজার ৪২০ মিটার থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার জোনে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং মূল খননকাজও সম্পন্ন হয়েছে। কূপের চাপ ও উত্তোলন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে ডিএসটি টেস্ট পরিচালিত হচ্ছে, যা শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। এই পরীক্ষা চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হলেই কূপে ঠিক কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা থেকে কী হারে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/এনএন