ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে জুতার মালা ঝুলিয়ে অবমাননার এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে পুরো জেলাজুড়ে। অবমাননার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আব্দুর রহমান সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার রাতেই জরুরি বৈঠক ডেকেছে জেলা প্রশাসন। ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি।

গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান সম্রাট ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কাঞ্চননগর মহল্লার মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে। সদর থানা-পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কী উদ্দেশ্যে এবং কার প্ররোচনায় এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যস্ত সড়কদ্বীপে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে বাঁধা একটি জুতার মালা ঝুলতে দেখেন পথচারীরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই অবমাননাকর দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি নামিয়ে এলাকা পরিষ্কার করেন।

ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাগ্নেসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানের প্রতি এমন চরম অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশের একাধিক ইউনিট ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে কোনো উসকানি বা সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় স্মারক ও বীরশ্রেষ্ঠদের মর্যাদাহানি কোনো অবস্থায় বরদাশত করা হবে না। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। অরক্ষিত ও নির্মাণাধীন অবস্থায় পড়ে থাকার সুযোগেই দুষ্কৃতকারীরা এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছে দাবি করে তারা ভাস্কর্যের দ্রুত কাজ সম্পন্ন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এনএন