কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন পথচারী কামড়ে আহত হয়েছেন। হঠাৎ কুকুরের এমন বেপরোয়া আক্রমণে পুরো শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আহতদের মধ্যে রাত পর্যন্ত ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা ও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারখালী পৌর শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই একটি পাগলা কুকুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। পথচারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি সামনে যাকে পায় তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। শহরের হলবাজার, আমতলা এবং ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একের পর এক পথচারী কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। আতঙ্কে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক ও ব্যস্ত দৃশ্য। কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে রক্তাক্ত হওয়া ক্ষতবিক্ষত রোগীদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোকন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি হলবাজার এলাকায় শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি তার হাঁটুতে কামড় বসিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত কুকুরটিকে চিহ্নিত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শহরের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে পড়বে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রত্যয় বিশ্বাস জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা প্রদান শুরু করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত ২৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বাকি আহতরা হাসপাতালে পৌঁছালে তাদেরও সার্বিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিশ্চিত করা হবে।
কুমারখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপর্না লতিফ আহমেদ জানান, বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে প্রায় ৪৫ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। হাসপাতালে রোগীর ভিড় সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং রাতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি নেই এবং আক্রান্ত প্রত্যেককেই বিনা খরচে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার জানান, কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ জন ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাগলা কুকুরটিকে দ্রুত আটকাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
