পরপর দুইবার মারণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও কীভাবে বেঁচে গেলেন ক্রিস্টা পাইক

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করেও ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যু হয়নি। প্রথমবার ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে থাকায় নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী দ্বিতীয়বার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তাতেও মৃত্যু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

পেন্টোবারবিটাল কী?
পেন্টোবারবিটাল একধরনের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধ, যা উচ্চমাত্রায় প্রাণঘাতী হতে পারে। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম দমন করে। সাধারণত ৫ গ্রামের বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হলে এটি রেসপিরেটরি অ্যারেস্ট বা শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং মস্তিষ্ককে অচল করে দিয়ে রোগীকে কোমায় নিয়ে যায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় পেন্টোবারবিটাল ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু পদ্ধতিতে এর সঙ্গে পেশি অবশকারী ওষুধ এবং পটাশিয়াম ক্লোরাইড প্রয়োগের ব্যবস্থাও রয়েছে।

কেন ক্রিস্টা পাইকের ক্ষেত্রে ওষুধ কাজ করেনি?
টেনেসি কারা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেয়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিস্টা পাইকের শিরায় ক্যানুলা স্থাপন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার শিরায় সূচ প্রবেশ করানোর জন্য মোট সাতবার চেষ্টা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ক্যানুলা সঠিকভাবে শিরায় স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রয়োগ করা ওষুধ রক্তপ্রবাহে না মিশে ত্বকের নিচের টিস্যুতে চলে গিয়ে থাকতে পারে।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে তার রক্তে জমাট বাঁধার প্রবণতা বা থ্রম্বোসাইটোসিস শনাক্ত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অবস্থার সঙ্গে ইনজেকশন ব্যর্থ হওয়ার সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ছাড়া ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ক্রিস্টা পাইকের পরিণতি কী হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পর্যায়ে জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় পেন্টোবারবিটাল ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও নীতিমালায় ভিন্নতা রয়েছে। টেনেসিতে এই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

ক্রিস্টা পাইকের পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনার পর টেনেসির ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের প্রধান ফ্রাংক স্ট্রাডা পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী চেষ্টা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারের বিষয়টি উঠে আসে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিচারক প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে আলাবামা অঙ্গরাজ্যে কেনেথ ইউজিন স্মিথ নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরিবর্তে নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছিল। তার ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

ক্রিস্টা পাইকের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো জানা যায়নি। পরবর্তী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা হবে কি না, হলে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে—এসব বিষয় আদালতের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস