চাঁদের বুকে রহস্যময় গহ্বর, আরও কী আছে জানতে অভিযান চালাবে নাসা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭

চাঁদের বুকে থাকা রহস্যময় একটি গর্তের নিচে বিশাল কোনো ভূগর্ভস্থ গুহা বা লাভা টানেল রয়েছে কি না, এবার তা সরাসরি অনুসন্ধান করবেন বিজ্ঞানীরা। এ লক্ষ্যে নতুন একটি অনুসন্ধান প্রকল্পে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

এর মূল লক্ষ্য চাঁদের বুকে থাকা রহস্যময় একটি গর্তের ভেতরে আসলে বিশাল কোনো ভূগর্ভস্থ গুহা রয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযান চালানোর সময় নভোচারীদের জন্য প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল খুঁজে বের করা এবং চাঁদের আগ্নেয়গিরির ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসার তথ্যমতে, নতুন এ মিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদের মারিয়াস হিলস পিট বা মারিয়াস হিলস গহ্বরের তথ্য সংগ্রহ করা। চাঁদের প্রাচীন আগ্নেয় অঞ্চলে অবস্থিত এ গহ্বরের গভীরতা প্রায় ৩৪ মিটার বা ১১১ ফুট এবং প্রস্থে ৬৫ থেকে ৯০ মিটার। কৃত্রিম উপগ্রহে ধারণ করা ছবিতে গহ্বরটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেলেও এটি কোনো বড় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা গুহার সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্য জানা নেই বিজ্ঞানীদের।

উপগ্রহের তোলা ছবিতে গর্তটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেলেও এর নিচে দীর্ঘ কোনো ভূগর্ভস্থ গুহা বা লাভা টানেল রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এবার চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে সরাসরি পরীক্ষা চালিয়ে সেই রহস্যের সমাধান করতে চান গবেষকেরা।

এ জন্য জিমলি প্রকল্পে একসঙ্গে কয়েক ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে থাকবে মাটির নিচে অনুসন্ধানের রাডার, ভূকম্পন শনাক্তকারী সেন্সর এবং মহাকর্ষ পরিমাপের যন্ত্র। 

এর পাশাপাশি ক্যামেরার সাহায্যে চাঁদের পৃষ্ঠ ও গহ্বরের উন্মুক্ত দেওয়ালগুলোর ছবিও তোলা হবে। একইসঙ্গে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডারের মাধ্যমে চাঁদের মাটির নিচে থাকা কাঠামো শনাক্তের পাশাপাশি সিসমিক সেন্সরের মাধ্যমে শিলার বৈশিষ্ট্য ও স্তর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

গবেষকদের মতে, চাঁদের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সময় কয়েকশ কোটি বছর আগে এসব লাভা টানেল তৈরি হয়েছিল। যদি গর্তটির নিচে অক্ষত কোনো লাভা টানেলের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি তৈরিতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কারণ ভূগর্ভস্থ এসব কাঠামো চাঁদের তীব্র তাপমাত্রার ওঠানামা, ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাত এবং ক্ষতিকর সৌর ও মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে মানুষকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষা দিতে পারে। 

প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমান্ডা হেনড্রিক্স জানান, দীর্ঘদিন ধরে যেসব বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর কক্ষপথ থেকে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেগুলো এবার সরাসরি চাঁদের মাটিতে নেমে  জানা যাবে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী পুটজিগ জানিয়েছেন, অ্যাপোলো নভোচারীদের পর এবারই প্রথম চাঁদের মাটিতে উৎসভিত্তিক সিসমিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদের ভূগর্ভস্থ বৈশিষ্ট্যগুলো আরও নিখুঁতভাবে জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এনটিএম