২২ বছর কারাবাসের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কয়েদির হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮

প্রায় ২২ বছর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকার পর সুলতান হাওলাদার (৬৪) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সুলতান হাওলাদার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

একই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার বাবা আবদুর রব হাওলাদারও প্রায় দুই বছর আগে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফলে একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলেরই কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হলো।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি হত্যা মামলায় ২০০৪ সালে আদালত সুলতান হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

জেলার আরও জানান, মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ইরান বলেন, ২০০১ সালে ভবানীপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই হত্যা মামলায় সুলতান বেপারীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরান আরও বলেন, একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সুলতানের বাবা আবদুর রব হাওলাদারও প্রায় দুই বছর আগে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তবে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, সুলতান বেপারী একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। মামলাটির বিস্তারিত তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকায় কোন হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ইত্তেফাক/এসজেএস