নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নদীভাঙনে একাধিকবার ভিটেমাটি হারিয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ক্লীন্টন সাহা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও স্থায়ী ঠিকানার জটিলতায় তার নিয়োগ আটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে ক্লীন্টনদের পরিবারের যেটুকু জমি ছিল, তা নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। সাতবার নদীভাঙনের পর তার বাবা চট্টগ্রামে এসে শাকসবজি ও ফলমূল বিক্রি করে সংসার চালাতে শুরু করেন। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে তারা ডবলমুরিং থানার মোগলটুলি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
সহকারী শিক্ষক পদে ডবলমুরিং এলাকা থেকে মোট ১২ জন প্রার্থী নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। তাদের মধ্যে চলতি বছরের মার্চে পাঁচজন এবং সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ছয়জন নিয়োগপত্র পেয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। তবে ক্লীন্টন সাহার নিয়োগপত্র স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আটকে রাখা হয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহম্মদ বলেন, ‘কারণ বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিয়োগপত্র দিয়েছি।’
ক্লীন্টন সাহা ২০১৪ সালে পাঠানটুলী সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং দেওয়ানহাট সিটি করপোরেশন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ক্লীন্টন সাহা। বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্নাতক শেষ করা ছোট বোনকে নিয়ে বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিজস্ব ভিটেমাটি না থাকায় বিভিন্ন চাকরির আবেদনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করে আসছেন।
ক্লীন্টন সাহা বলেন, ‘আদি বাড়ি ও জন্মস্থান হাতিয়ায় আমাদের কোনো ভিটে বা ঘর নেই। তাই সব আবেদনে বর্তমান বাসার ঠিকানা দিয়েছি। মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পরও শুধু স্থায়ী ঠিকানার কারণে নিয়োগপত্র পেলাম না। এই চাকরিটি আমাদের পুরো পরিবারের জন্য কতটা জরুরি, তা বলে বোঝানো যাবে না। জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও শুধু একখণ্ড জমি না থাকার কারণে আমি নিয়োগপত্র পেলাম না। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো পরিবারের সন্তান ক্লীন্টন সাহার মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করে মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হাতিয়ার সচেতন মহলের অনেকে।
