জঙ্গল সলিমপুর থেকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ইয়াছিন বাহিনীর ৪ সদস্য

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান ও ১৬ রাউন্ড গুলিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই স্থানীয়ভাবে পরিচিত ইয়াছিন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলে দাবি পুলিশের।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনায়েত কাউসার। 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড থানা, আলীনগর ক্যাম্পের ফোর্স এবং বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন- মো. রাসেল (৩০), মো. মোরশেদ (৩৩), মো. বাবু (৩২) এবং মো. সাব্বির (৩২)। তাদের মধ্যে রাসেলের নামে তিনটি অস্ত্র মামলা এবং মোরশেদের নামে দুটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা আছে বলে পুলিশের ভাষ্য।

পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও পাহাড় দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নির্দেশনায় অভিযান চালানো হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে আলীনগর এলাকায় সম্মিলিতভাবে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযানে একটি শটগান, একটি চাইনিজ পিস্তল, নয়টি সিসা বুলেট, ছয়টি কার্তুজ বুলেট, একটি টেডা, চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক ও চাঁদা সংগ্রহের তালিকা সংবলিত একটি খাতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার বলেন, আলীনগর ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গভীর পাহাড়ে বাহাদুর ঘোনা নামক একটি এলাকায় অস্ত্রসহ কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে বলে সংবাদ পাই। তারপর বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ড থানা, আলীনগর ক্যাম্পের ফোর্স এবং সাথে বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যরাসহ অভিযান পরিচালনা করি। এসময় সন্ত্রাসীদেরকে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুনায়েত কাউছার বলেন, গ্রেপ্তার চারজন বেশ কিছুদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্রভাবে অবস্থান করছিল। তারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে তৎপর ছিল।

এত অভিযানের পরেও কেন জঙ্গল সলিমপুর থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করা যাচ্ছে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদেরকে বিতাড়িত করা যাচ্ছে না, এ কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। গত বছর বহিরাগত কোনো লোক, সাংবাদিকরা জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকতে পারত না। এখন সে পরিস্থিতি নাই। আপনারা নির্দ্বিধায় জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারেন। তাহলে অবস্থার তো সুস্পষ্ট উন্নতি ঘটেছে। সন্ত্রাস নির্মূল একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে সব সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের আওতায় আসবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 
ইত্তেফাক/এমএসআর