দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি দেশ গড়তে চান, যেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবেন এবং সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা যেন সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সমাজেই কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এবার দুর্গাপূজার বেশ আগেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে, তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে বন্যার সময় জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা তাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী রাজীব ধর তমাল এবং চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
