বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৮ জন নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা রয়েছেন।
বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা। তাদের সংখ্যা ১৩৬। এরপর আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৮১ জন।
এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।
বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।
কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে একটি বিধিমালার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় চারটি শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় মার্কের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো)-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যও গ্রহণ করেছে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেকো জানিয়েছিল, সংস্থাটির দেওয়া মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি আটটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে গ্রেকোর।
এছাড়া, গত বছরের জন্য দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের আওতায় মোট ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২২টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
