প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি দেখে কলোনিতে মন্ত্রী, কী আছে সেখানে

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯

ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির দেওয়ালে পুরোনো ঝুড়ি, বালতি ও মগে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের গাছ। কলোনির সবুজ পরিবেশের এমন ছবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঠান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে। সেই ছবি দেখে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলোনিটি দেখতে যান মন্ত্রী। 

জানা যায়, এদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনিতে গিয়ে বাসিন্দাদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

জানা যায়, বাঁশবাড়ি কলোনির দেওয়ালে দেওয়ালে ঝুলছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগে লাগানো হয়েছে এসব গাছ। একসময় যে সড়কে আবর্জনার দুর্গন্ধ ছিল, সেখানে এখন ছড়াচ্ছে ফুলের সুবাস।

পরিদর্শন শেষে আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে এলাকার মানুষ যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত। মানুষের বসবাসের জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং সেখানে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ উন্নত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য শহরেও এ মডেল চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে।

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো হচ্ছে। চলতি বছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে। সারাবছরই গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা যায়, ২০২৩ সালে বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। তারা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাদের উদ্যোগে সমর্থন দেন। এরপর মাত্র তিন মাসে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেওয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান।

অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেওয়ালে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গাছের ফাঁকে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।

উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।’

এদিকে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম প্রমুখ।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম