পিটিআইয়ের লংমার্চ: বৈঠকে বসছে পাকিস্তান সরকার, জরুরি অবস্থা জারির শঙ্কা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে এই কর্মসূচি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হতে যাওয়া বৈঠকে জ্যেষ্ঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সরকার যদি এ পথে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকতে পারেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা সম্পন্ন করেছে, তবে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।

জিও নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কোনো বিশেষ বা নির্ণায়ক বৈঠক ডাকা হয়েছে—এমন খবর তিনি নিশ্চিত করেননি।

এদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সুহাইলের বিরুদ্ধে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো লংমার্চে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআই। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন নেতাকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

তবে লংমার্চকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তিনি বলেন, এবার এই বিষয়টির চূড়ান্ত অবসান ঘটানো হবে। রাজধানীতে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করার সুযোগ পিটিআইকে দেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদিকে একহাত নিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ও প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও জানতে চান কুন্দি।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে সমঝোতার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। ফাঁস হওয়া একটি অডিও বার্তায় আফ্রিদির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপস এবং ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত করার অভিযোগ করেন তিনি। আলী আমিনের মুখপাত্র অডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি আফ্রিদি।

ইত্তেফাক/আরএইচ