আরিফের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহারে আম্মারের আলটিমেটাম

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সুপারিশ প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর অস্ত্রের মহড়া ও দেশীয় অস্ত্র মজুতের ছবি-ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সচেতন প্রতিনিধি হিসেবে ফেসবুকে পোস্ট দেন আরিফুল ইসলাম। ওই দিন সন্ধ্যায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঢুকে তার কক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া ৮ থেকে ১০ জন সাংবাদিকের ওপরও হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৯ অক্টোবর প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হামলা ও অস্ত্রের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ না করে আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ সুপারিশ একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে—আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হলে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার, মতিহার হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) তাইজুল ইসলাম ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা আশা করি, সিন্ডিকেটে উপাচার্য বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি বলেন, আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের কারও নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। তাদের কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ প্রক্সি পরীক্ষার্থী এবং কেউ পুরোনো শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ফলে একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাদের পরিস্থিতি মিলিয়ে একই ধরনের শাস্তির সুপারিশ বৈষম্যমূলক।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো কিছু নেই। স্মারকলিপির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে বা কী করা হবে, তা অফিসের কর্মদিবসে জানিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, শনিবার অফিস বন্ধ ছিল। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যে শিক্ষার্থীরা এসে স্মারকলিপি দিয়ে গেছেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম