কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার অটোরিকশাচালকের

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৪

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অটোরিকশাচালক সুমন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য সময় দেন। পরে তিনি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ৩০০ টাকা ভাড়ায় পদুয়ার বাজার থেকে রেসকোর্স এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তিনি তাকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে লালমাই-বাগমারা হয়ে জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে কাত হয়ে পড়ে। তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলেও সুমন তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন সুমন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর অটোরিকশাটি ফেলে রেখে তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান সুমন। পরে একটি পুকুরে গোসল করে অন্য একটি পুকুরপাড়ে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৪ বছর বয়সী তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে শেষবার দেখা যায়। একই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থান জানিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে বার্তা পাঠায় সে। তবে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।

পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হয়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম