বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলল ভারত 

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকদের গণহারে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগের জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের এ উদ্বেগকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটি।

দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে শত শত বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ যথাযথ নয়। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বড় আকারের বিক্ষোভের প্রতিও সংস্থাটির সমান মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।

ভারতের জাতিসংঘবিষয়ক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। দেশটির সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এ অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে এবং কোনো অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার জন্য দেশটির আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত।’

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে গণহারে আটকের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার পুরোপুরি সম্মান ও নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।

Unwarranted Interference": India Slams UN's Remarks On Delhi Detentions

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, আটক নেতারা
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে সিজেপির করা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।

এ ছাড়া সিজেপির সমর্থকদের দিল্লিতে আসা ঠেকাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল যোগাযোগের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ।

পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজেপির শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী তখনো আটক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস