এফ-৩৫ নিয়ে মার্কিন জেনারেলকে খোঁচা ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধানের

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৬

রাজস্থানের যোধপুরে শেষ হওয়া বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারকে পাশে বসিয়ে তিনি রসিকতার ছলে মন্তব্য করেন যে, মার্কিন সেনারা ভারতীয়দের এফ-৩৫ বিমানের কাছেই যেতে দেয় না, অথচ এটি বিক্রির গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি মন্তব্য করেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের এফ-৩৫ বিমানের কাছাকাছিও ঘেঁষতে দেন না। এ সময় মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর (ইউএস প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেস) কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার তার পাশেই বসা ছিলেন।

যোধপুরে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির কোনো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, ‘আপনাদের লোকজন তো আমাদের বিমানটির কাছাকাছিও যেতে দেয় না, আর আপনারা সেটি আমাদের কাছে বিক্রির কথা বলছেন।’

এবারের ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ যুদ্ধবিমান ভারতে এসেছিল। বিমানটির ভেতরে দেখার বা ককপিটে ওঠার কতটা সুযোগ ভারতকে দেওয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হলে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিনপক্ষ আমাদের ককপিট দেখায়নি, তবে খুব কাছ থেকে একসঙ্গে উড্ডয়ন (ক্লোজ ফরমেশন ফ্লাইং) করার অনুমতি দিয়েছিল।’

তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ সাধারণত এ ধরনের গোপনীয়তার নীতিই অবলম্বন করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার এফ-৩৫ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে সামরিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এফ-৩৫ সম্পর্কিত কী তথ্য কখন শেয়ার করা যাবে এবং কীভাবে তা সুরক্ষিত রাখা হবে, তা নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম-লেভেল নিরাপত্তা নীতিমালা রয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এককভাবে আমার নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ নিয়ে আলোচনার মাঝেই ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়াও ভারতের কাছে তাদের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের সুখই সু-৫৭ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, রুশ পক্ষ আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

ভারত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (এএমসিএ) পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। এই মধ্যবর্তী সময়ের সামরিক ঘাটতি মেটাতে ভারত একটি সাময়িক বিকল্পের কথা চিন্তা করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় অন্যতম পরাশক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে ভারত। যেখানে প্রতিবেশী চীন ইতিমধ্যে তাদের বহরে বিপুলসংখ্যক জে-২০ এবং জে-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান যুক্ত করেছে। সেখানে ভারতের একটিও এ ধরনের যুদ্ধবিমান নেই। এ ছাড়া, চীনের কাছ থেকে পাকিস্তানও ৪০টি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ভারতের রাডার, সেন্সর এবং গোয়েন্দা নজরদারি কাঠামোর বড় একটি অংশ পশ্চিম সীমান্তমুখী হওয়ায়, রাশিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত কোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুধু বিমান কেনাই নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিজস্ব অস্ত্রের সঙ্গে সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়গুলো জড়িয়ে থাকে।

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেন আলাদা?

আধুনিক আকাশযুদ্ধে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোকে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে গণ্য করা হয়। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

স্টিলাথ প্রযুক্তি: বিশেষ নকশা, রাডার তরঙ্গ শোষণকারী প্রলেপ এবং ভেতরের চেম্বারে অস্ত্র বহনের ব্যবস্থার কারণে শত্রু রাডারে এই বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

সমন্বিত তথ্য ও সেন্সর: বিমানের আধুনিক রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি এবং ইনফ্রারেড সেন্সর যুদ্ধক্ষেত্রের যাবতীয় তথ্য একত্রিত করে পাইলটের সামনে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ফলে পাইলটকে আলাদা আলাদা স্ক্রিন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয় না।

 
ইত্তেফাক/এসএইচ