আসামি ছাড়াতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ ওসির

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৫

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন নিয়ে থানার ফটকে অবস্থান ও হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে আসামিদের ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। তবে জহিরুল ইসলামের দাবি, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি স্থির থাকতে পারেননি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে রুহিয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুহিয়া উপজেলার কুজিশহর এলাকায় নাজমিন আক্তার নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুহিয়া থানায় মামলা করেন নাজমিন। মামলায় কুজিশহর (ঘুরণগাছ) এলাকার ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা হওয়ার পর রাত ২টার দিকে পুলিশ বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামানকে (৪০) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে তাদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানায় জড়ো হন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা থানার ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলটির কয়েকজন নেতা-কর্মীও সেখানে ছিলেন। থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে বাইরে থেকে বিভিন্ন স্লোগান ও হট্টগোল করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী ফটকে আসেন। ওসির দাবি, এ সময় জহিরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলেন। জবাবে তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পরে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার থানায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাজমিন আক্তারের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামও জানতেন এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, মামলা হওয়ার আগেই পুলিশ টাকার বিনিময়ে তার দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। এ খবর পেয়ে সকালে এলাকাবাসী থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন।

তবে মামলা হওয়ার আগে গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ৫০ থেকে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে মব সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পুলিশের সঙ্গে থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন উপনির্বাচন চলছে। দুপুরে দলের প্রার্থী এলাকায় এসেছিলেন। আর সেই রাতেই দলের কর্মীদের নামে মামলা হলো। সেই মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, থানায় লোকজন অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, লোকজন থানার ফটকে অবস্থান করছেন। তার ভাষ্য, পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে থানার বাইরে যেতে আশঙ্কা করছিল। পরে তিনি লোকজনকে বুঝিয়ে পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান।

পরে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই দিন পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম